মহাপ্রয়ানের কয়েক বৎসর পূর্বে মহাত্মা গান্ধী যখন সোদপুর খাদি আশ্রমে বসবাস করিতেছিলেন, সে সময় ব্যারিষ্টার ও কবি সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস মহাশয় গান্ধিজীর উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখিয়াছিলেন। তিনি গান্ধীজীকে আরো লিখিয়াছিলেন যে, সোদপুর হইতে অতি নিকটে পানিহাটিতে গঙ্গাতীরে এক তীর্থস্থান আছে। প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে পতিতপাবন শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সতথানে আসিয়া একদিন রাঘব পন্ডিতের গৃহে অতিথি হইয়াছিলেন। গান্ধীজী যেন ঐ তীর্থস্থান একবার দর্শন করেন।

ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নির্দিষ্ট দিনে সকাল সাতটার পূর্বে একখানি বড় মোটর গাড়ি লইয়া সোদপুর গমন করেন। মহাত্মা গান্ধীকে খবর দিতেই তিনিও বাইরে আসেন। কিন্তু মোটর গাড়ীতে উঠিবার কথা বলিলে তিনি বলেন, তুমি তো বলিয়াছ সোদপুর হইতে পানিহাটির দূরত্ব এক মাইল। আমি তীর্থস্থানে যাইব, পায়ে হাটিয়া যাইবার শক্তি আমার আছে। কাজেই আমি গাড়ীতে যাইব না। তখন মাঘ মাসের প্রথম দিক সেবার শীতো বেশি পড়িয়াছিল, তথাপি গান্ধীজী সকলের সহিত পায়ে হাটিয়া গঙ্গাতীরে বটতলায় গমন করিয়াছিলেন এবং সেখানে একঘন্টা থাকিয়া পদব্রজে সদপুর ফিরিয়া আসিয়াছিলেন। তীর্থস্থানকে তিনি কত শ্রদ্ধা করিতেন তাহা তাহার জীবনের এ ঘটনা হইতে ভাল বোঝা যাইবে। ১৯৪৬ সালের ১৮ই জানুয়ারী গান্ধীজী পদব্রজে পানিহাটির গ্রাম ও শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি বিজরিত বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণ করেন। এ প্রসঙ্গে ভারতবর্ষ পত্রিকাতে (২য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যা) সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।

Menu Title